হযরত মিকাইল ফেরেশতা দেখতে কেমন এবং তার কাজ কি

প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্টে আমরা জানব যে হযরত মিকাইল ফেরেশতা দেখতে কেমন এবং তিনার কাজ কি? 



হযরত ইসরাফিল ফেরেশতার জন্মের 500 বছর পরে হযরত মিকাইল ফেরেশতা সৃষ্টি হয়। তার যমরুদ নির্মিত বিরাট দুটি টানা আছে এরও মাথা থেকে পা পর্যন্ত সর্বাঙ্গ বৃহৎ জাফরানি রঙের লোমে আবৃত। উক্ত লোমের প্রত্যেকটি ১০ লক্ষ করে মুখ ও 10 লক্ষ চোখ আছে । আল্লাহর শাস্তির ভয়ে প্রত্যেক চক্ষু হতে সর্বদা অশ্রুর প্রত্যেক ফোটা হতে একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি হচ্ছে।


হযরত মিকাইল ফেরেশতা দেখতে কেমন এবং তার কাজ কি




এরা সবাই হযরত মিকাইল ফেরেশতার আকৃতি বিশিষ্ট। তবে আকারে অনেক ছোট। হযরত মিকাইল ফেরেশতার অশ্রুতের সৃজিত যাবতীয় ফেরেশতারায় হযরত মিকাইল ফেরেশতার কার্যের সাহায্য করে থাকে এবং তারা সকলেই হযরত মিকাইল নামে অভিহিত হয়ে থাকে। তারা সকলে হযরত মিকাইলের সাহায্যকারী ফেরেস্তা হিসেবে আসমানের সর্বত্র অবস্থান করে।



প্রয়োজন অনুসারে পৃথিবীতে মেঘ বর্ষন ফলমূল শাকসবজি ও শস্যাদি উৎপাদন এবং যাবতীয় প্রাণীর আহার্য বন্টন এর কাছে নিয়োজিত আছে। আকাশ পাতাল পাহাড় পর্বত বন জঙ্গল নদী সমুদ্র ধূসর মরুভূমি প্রবৃদ্ধির মধ্যে এমন কোন স্থান নেই যেখানে হযরত মিকাইল ফেরেশতার সাহায্যকারী গণ অবস্থান না করে। পৃথিবীর কোথায় কোন সময় কি পরিমান মেঘ বর্ষণ করতে হবে তা তারাই ঠিক করে দেয়।



যাবতীয় প্রাণীর আহার্য বন্টন এর ভারও এদের উপরেই অর্পিত রয়েছে। কে কোন সময় কোথা থেকে কি উপায়ে কোন প্রকারে কী পরিমাণ খাদ্য আহার করবে তা এদের ব্যবস্থাপনার উপরেই নির্ভর করে। কোন রূপেই এদের এই খাদ্য ব্যবস্থা কোন ব্যতিক্রম ঘটে না। যে সময় যার জন্য যেখানে যে প্রকারের যতটুকু খাদ্য বরাদ্দ করা আছে সেই ব্যক্তি সহস্র মাইল দূরে অবস্থান করলেও সেই নির্দিষ্ট সময়ে তাকে যেকোনো উপায়ে সেই নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়ে সেই খাদ্য আহার করতে হবে।




কোন কারনেই এর ব্যতিক্রম ঘটে না। পক্ষান্তরে বরাদ্দকৃত খাদ্য ব্যতীত কেউ একটানা খাদ্য আহার করতে সক্ষম হবে না। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কসম করে বলছি কোন মানবের জন্য হযরত মিকাইল ফেরেশতার বরাদ্দকৃত খাদ্যের একটি কনা অবশিষ্ট থাকতেও কেউ দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করে না। পক্ষান্তরে কোন মানুষের সাধ্য নেই যে তার জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য অপেক্ষা একটি কনা খাদ্য অতিরিক্ত আহার করে।




আবার কারো ক্ষমতা নেই যে সে তার জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য আহারে বিরত থাকে। যখন কোন মানুষের অন্তিম কাল উপস্থিত হয়, তখন তার খাদ্য বন্টনকারী ফেরেস্তাটি তার নিকটে এসে বলে আমি তোমার জন্য খাদ্য বন্টন ও নিয়ন্ত্রণকার্যে নিয়োজিত ছিলাম আজ সারা দুনিয়া খুঁজেও তোমার আহারের জন্য কোন খাদ্যের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হলাম না। আমার দায়িত্ব শেষ হল আমি তোমার নিকট থেকে চিরতরে বিদায় গ্রহন করলাম।



দুনিয়ার কোথায় কোন সময় কোন প্রকারের শস্যাদি ফলমূল ও শাকসবজি কি পরিমান উৎপন্ন করতে হবে তাও হযরত মিকাইল ফেরেশতা এবং তার সাহায্যকারী ফেরেস্তাগণ ঠিক করে দেয়। তাদের নির্দেশ ব্যতীত পৃথিবীর কোথাও একখানা শস্য উৎপন্ন হতে পারে না। মূলত সবকিছুই মহান রাব্বুল আলামিন এগুলি নির্ধারিত করে রেখেছেন। শুধুমাত্র ফেরেস্তারা তাদের কাজ করে।


Post a Comment

Previous Post Next Post